আজ জ্যাঠামশাইয়ের কথা খুব মনে পড়ছে। যদিও আজ তার মৃত্যুদিন নয়।সেই দিনটার কথা আজও মনে পড়ে। সাল ১৯৮৫, তারিখটা ছিলো ১৭ই মে।সেদিন হঠাৎই আমার জ্যাঠামশাই আমাদের ফাঁকি দিয়ে চিরদিনের মতো বিদায় নিল। ক্ষয়িষ্ণু যৌথ পরিবারে দিনগুলো কেটে যেতো হেসেখেলে। হঠাৎই ছন্দপতন। সংসার নামক বেহালার একটি তার যেন হঠাৎ ছিড়ে গেল।
আমরা সকলে একসাথে থাকতাম। জ্যাঠা, জ্যাঠামা, জ্যাঠতুতো দাদা ও দিদি।সঙ্গে আমি ও আমার বাবা, মা। দুই পরিবারের মাঝে আমার ঠাকুমা ছিলেন শ্যামল তরুর ছায়ার মতো। জ্যাঠা ছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের মতই সরল।ঈর্ষা,লোভ,আক্রোশ,ব্যাক্তি সমালোচনা,দ্বেষ এই শব্দ গুলো জ্যাঠার অভিধানে ছিলোনা। ভূরিটাও ছিল মহাদেবের মতই।বিশাল সে ভূরির ব্যাপ্তী।জ্যাঠার সে ভূরিই ছিল আমার খেলাঘর।ভূরির উপরেই আমার যত জারিজুরি।তখনো কথা শিখিনি।বয়স আমার এক এর ঘর পেরোয়নি তখনো। জ্যাঠার ভূরিতে দোল খেতে খেতে হিব্রু বা ল্যাটিন ভাষার মতো কিছু দূবোর্দ্ধ শব্দ আওড়াতাম। জ্যাঠা ও আমার সঙ্গে সঙ্গত করতো। প্রতিদিন সূর্য ওঠে সূর্য অস্ত যায়। দিন যায় বছর যায়। নববর্ষের ক্যালেন্ডারেরা ভির জমায় আমাদের ভাড়াবাড়ির দেওয়ালে। দেখতে দেখতে দাদা, দিদির সাথে আমিও বেড়ে উঠছিলাম। একদিন দিদির বিয়ে হয়ে গেল।শশুর বাড়ি খুব কাছেই। জামাইবাবু চাকরি সূত্রে ধানবাদ কোলিয়ারিতে পোস্টেড। বিয়ের পর দিদি চলে গেল ধানবাদ।
জ্যাঠার শরীর বেশ কিছুদিন ভালো যাচ্ছিলো না। মেয়েকে একটু কাছে পেতে তার মনের মধ্যে উচাটন চলছিলো। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবার ওজর-আপত্তি ছিলো। তবু দাদা ও জ্যাঠামাকে নিয়ে রওনা দিলো ধানবাদ। ধানবাদে মেয়ে, জামাই য়ের সাথে কদিন ভালোই কাটলো। দিনটা ১৯৮৫ সালের ১৭ ই মে। জ্যাঠা বাড়ি ফিরে আসছেন।ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই স্টেশনে পৌঁছাতে হবে।সেদিন সঙ্গে ছিল দিদি, জামাইবাবু। এরপরের কয়েকটা মিনিটের ঘটনা কেড়ে নিয়েছিলো জীবনের অনেকটাই।রাস্তায় জ্যাঠা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে।তারপর সব শেষ। ১৮ ই মে আমাদের বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামলো। দিদি, জ্যাঠামা,দাদা, জামাইবাবুর সঙ্গে সেদিন জ্যাঠাও ফিরেছিলো।ওই গাড়ি থেকেই নামানো হয় জ্যাঠার প্রাণহীন দেহটা নামানো হয়। ঘটনার আকষ্মিকতায় বোধহয় সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছিলেন আমার ঠাকুমা।সন্তান হারানোর শোক মা তো বেশি পাবেনই। আমি বসেছিলাম স্তবির,বাকরুদ্ধ হয়ে।কাঁদতে ভূলে গিয়ে আমি তখন অভিব্যাক্তিহীন। নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে বসেছিলাম আমার জ্যাঠার দিকে।জ্যাঠা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
অন্তরা দাশগুপ্ত।
আমরা সকলে একসাথে থাকতাম। জ্যাঠা, জ্যাঠামা, জ্যাঠতুতো দাদা ও দিদি।সঙ্গে আমি ও আমার বাবা, মা। দুই পরিবারের মাঝে আমার ঠাকুমা ছিলেন শ্যামল তরুর ছায়ার মতো। জ্যাঠা ছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের মতই সরল।ঈর্ষা,লোভ,আক্রোশ,ব্যাক্তি সমালোচনা,দ্বেষ এই শব্দ গুলো জ্যাঠার অভিধানে ছিলোনা। ভূরিটাও ছিল মহাদেবের মতই।বিশাল সে ভূরির ব্যাপ্তী।জ্যাঠার সে ভূরিই ছিল আমার খেলাঘর।ভূরির উপরেই আমার যত জারিজুরি।তখনো কথা শিখিনি।বয়স আমার এক এর ঘর পেরোয়নি তখনো। জ্যাঠার ভূরিতে দোল খেতে খেতে হিব্রু বা ল্যাটিন ভাষার মতো কিছু দূবোর্দ্ধ শব্দ আওড়াতাম। জ্যাঠা ও আমার সঙ্গে সঙ্গত করতো। প্রতিদিন সূর্য ওঠে সূর্য অস্ত যায়। দিন যায় বছর যায়। নববর্ষের ক্যালেন্ডারেরা ভির জমায় আমাদের ভাড়াবাড়ির দেওয়ালে। দেখতে দেখতে দাদা, দিদির সাথে আমিও বেড়ে উঠছিলাম। একদিন দিদির বিয়ে হয়ে গেল।শশুর বাড়ি খুব কাছেই। জামাইবাবু চাকরি সূত্রে ধানবাদ কোলিয়ারিতে পোস্টেড। বিয়ের পর দিদি চলে গেল ধানবাদ।
জ্যাঠার শরীর বেশ কিছুদিন ভালো যাচ্ছিলো না। মেয়েকে একটু কাছে পেতে তার মনের মধ্যে উচাটন চলছিলো। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবার ওজর-আপত্তি ছিলো। তবু দাদা ও জ্যাঠামাকে নিয়ে রওনা দিলো ধানবাদ। ধানবাদে মেয়ে, জামাই য়ের সাথে কদিন ভালোই কাটলো। দিনটা ১৯৮৫ সালের ১৭ ই মে। জ্যাঠা বাড়ি ফিরে আসছেন।ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই স্টেশনে পৌঁছাতে হবে।সেদিন সঙ্গে ছিল দিদি, জামাইবাবু। এরপরের কয়েকটা মিনিটের ঘটনা কেড়ে নিয়েছিলো জীবনের অনেকটাই।রাস্তায় জ্যাঠা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে।তারপর সব শেষ। ১৮ ই মে আমাদের বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামলো। দিদি, জ্যাঠামা,দাদা, জামাইবাবুর সঙ্গে সেদিন জ্যাঠাও ফিরেছিলো।ওই গাড়ি থেকেই নামানো হয় জ্যাঠার প্রাণহীন দেহটা নামানো হয়। ঘটনার আকষ্মিকতায় বোধহয় সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছিলেন আমার ঠাকুমা।সন্তান হারানোর শোক মা তো বেশি পাবেনই। আমি বসেছিলাম স্তবির,বাকরুদ্ধ হয়ে।কাঁদতে ভূলে গিয়ে আমি তখন অভিব্যাক্তিহীন। নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে বসেছিলাম আমার জ্যাঠার দিকে।জ্যাঠা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
অন্তরা দাশগুপ্ত।
Comments
Post a Comment