হিমাচল ভ্রমন

সালটা ছিলো ২০১৪,আমরা হিমাচল প্রদেশের প্রাকৃতিক শোভার হাতছানিতে বেড়িয়ে পড়লাম।ট্রেনে দিল্লিতে যখন পৌঁছলাম তখন রাত ভোর হয়েছে।পূবদিকে লাল টুকটুকে সূর্য্য।সঙ্গে মা,বাবা,মাসি এবং আমার জ্যাঠতুতো দাদা ,বৌদি  ও ছোট্ট  ভাইঝি|দিল্লিতে একটা হোটেলে একবেলা হল্ট করলাম।স্নান খাওয়া দাওয়া সেড়ে দুপুর বেলা শতাব্দী এক্সপ্রেসে চড়ে বসলাম।ট্রেন রওনা দিলো চন্ডিগড়ের উদ্দেশ্যে। বিকাল বেলা চন্ডিগড় পৌঁছলাম। গেস্ট হাউস বুক করাই ছিলো।ছোট্ট খাট্টো হলেও একতলা গেস্ট হাউসটার চারদিকে একটা স্নিগ্ধতার ছাপ।এখানে ফুডিং এর ব্যাবস্হা নেই।খাবার ব্যাবস্হা ছিলো কাছের পার্টি অফিসে। ফ্রেস হয়ে আমরা পৌছে গেলাম।পার্টি কর্মীদের সাথে সারা দিন গল্প করে ভালোই কাটলো আমাদের।তাদের আতিথেয়তা ভোলার না। পরদিন গেস্ট হাউসের সামনে থেকেই অটোরিক্সা পেয়ে গেলাম।
বেরিয়ে পড়লাম সাইড সিন্ দেখতে।এখানে এলে অবশ্যই দেখবেন রকগার্ডেন,বেশ ইন্টারেস্টিং ব্যাপার,পুরোটা দেখতে দুঘন্টা পেড়িয়ে যাবে,হাতে সময় নিয়ে আসবেন কিন্তু।আর দেখবেন বশিষ্ঠের আশ্রম।খুটিয়ে দেখতে দেখতে দিন কাবার।সন্ধ্যায় একটা ট্রাভেল এজেন্সির সাথে কথা হলো। পরের দিন ওদের গাড়ি করে আমরা হিমাচল ঘুড়ে দেখলাম।সঙ্গে তুলে নিয়েছিলাম হাল্কা টিফিন।আলুর পরোটা আর সরষে শাকের কারি,চাটনি,ফ্লাক্সে গরম চা।প্রথমে গেলাম হিমাচলের কুলু।বারো ঘন্টার জার্নি।রাত্রি বেলা পৌঁছলাম।ওখানকার পার্টি অফিসে আমাদের থাকার ব্যাবস্হা হলো।অফিস টা অনেক  বড়ো| পরের দিন আমরা সকাল বেলা বেড়িয়ে পড়লাম,গন্তব্য মনিকরণ| মনিকরণের অপূর্ব  শোভা। চারিদিক জুড়ে উদ্ভাসিত হিমালয় যেন রুপালি মুকুট পড়েছে। হিমালয় যেন রাজা, যিনি সব দিক দিয়ে তার প্রজাদের সব বিপদ থেকে আগলে রেখেছেন| হিমাচলের সব থেকে বড়ো  নদী বিপাশা।কথিত আছে পুত্রদের হারিয়ে ঋষি বশিষ্ঠ তখন পাগলের মতো বিলাপ করছেন।সিদ্ধান্ত নিলেন জীবন ত্যাগ করবেন।যেমন ভাবা তেমন কাজ।নিজেকে পাশবদ্ধ করে নদীর জলে নিক্ষেপ করলেন। ভগবানের নির্দেশে নাকি ওই নদীই তার পাশ মুক্ত করলে তার নাম হলো বিপাশা |মনিকরণে পার্বতী মন্দিরের কাছে আরও একটা নদী আছে। তার নাম পার্বতী। প্রচন্ড স্রোত | পাহাড়ি নদী টি যেন কোনো ছোট চঞ্চল বালিকা অনবরত  ছুটে চলেছে |তার সাথে বিপাশা মিশে এক মনমুগ্ধকর ছন্দ তৈরী করেছে|বিকেলে মনিকরণ থেকে কুলুতে ফিরে এলাম|এর  পরের গন্তব্য মানালি।কথিত আছে পান্ডবগণ বনবাসের সময় ঐ  বনে রাত কাটান।ঐ বনে  থাকতো হিড়িম্ব ও হিড়িম্বা নাম দুই রাক্ষস ভাই বোন।
 পান্ডব দেড় সাথে যুদ্ধে হিড়িম্ব মারা গেলে হিড়িম্বা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সুন্দরী নারীর বেশে দ্বিতীয় পান্ডব ভীমের দ্বারস্থ হলেন। ভীম তার রূপে মুগ্ধ হয়ে বিবাহ করলেন |হিড়িম্বা আর রাক্ষসী জীবন গ্রহণ করেননি | তিনি তার পুত্র ঘটোৎকচকে নিয়ে থাকতেন। সারাজীবন নিরামিস খেতেন।কালক্রমে তিনি দেবী তে পরিণত হয়ে যান।তার ছেলে ঘটোৎকচ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে মারা যায়।দেবী যে আগে যেখানে থাকতেন সেখানেই তার মন্দির নির্মাণ করা হয়।দশেরার দিন খুব বড়ো উৎসব হয়।সেদিন হিড়িম্বার স্নান হয়।পরের দিন আমরা গেলাম ধর্মসালা।সেখানে এক রাত থেকে আমরা সকালবেলা ডালহৌসি পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। উদ্দেশ্য দলাইলামার বাসস্হান। আপার ডালহৌসিতে একটা হোটেলে রাত্রিবাস করে আমরা খাজিয়ার ঘুরে পাঠানকোটে  নামলাম। এজেন্সির গাড়ি আমাদের স্টেশনে  নামিয়ে ফিরে গেল চন্ডীগড়।  রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি ফিরে এলাম।এবার গন্তব্য আগ্রা। দিল্লি বহুবার এসেছি।আগ্রার তাজমহল বাববার মনকে টানে।ইন্দিরা মাসি আগে তাজমহল দেখেনি।সেই ছুঁতোয় এবারও তাজমহলটা ঘুড়ে নিলাম। রাজধানীতে হাওড়া ফেরার সময় মনটা ভাড়ী হয়ে উঠলো।  পিছনে ফেলে আসা হিমালয়ের বিশাল ব্যাক্তিত্ব।তার সৌন্দর্যের  হাতছানির নস্টালজিয়া আজও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। 

অন্তরা দাসগুপ্ত




Comments

  1. ভাল লিখেছেন। এ অধম গেল বছর হরিদ্বার ঘুরে এসেছে। জানিনা হরিদ্বার কেন যেন আমাকে টানে। সেখানের আধা শীতল ঠান্ডা জলে স্নান, মনের সব কালিমা দুর করে দেয়। 2018 সালে ও গিয়েছিলাম।

    হরিদ্বার থেকে দেহরাদুন। বাসে করে যেতে আসতে ঘন্টাতিনেক সেখান থেকে মুসৌরী ও ঘুরে আসতে পারেন। হরিদ্বারে বাঙালী হোটেল আছে বেশ কয়েকট। হোটেল ভাড়া তুলনামূলক ভাবে কম।

    হরিদ্বারের গেলা অবশ্যই মা মনসার মন্দির অবশ্যই দেখতে যেতে হবে। রোপওয়ে করে যেতে হবি জনপ্রতি 300 টাকা। মনসা মন্দিরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জিবনে ও ভোলার নয়।

    ReplyDelete

Post a Comment